চাঁদপুরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, টিকা ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ কম থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে জনবলসংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সকালে প্রথমে মেঘনাপাড়ের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান শাখাওয়াত হোসেন। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুন নবী মাসুমের কাছে হাসপাতালের ওষুধ, টিকা ও ভ্যাকসিনের সরবরাহ সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
কর্মকর্তা জানান, রোগীর চাহিদার তুলনায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকার সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। এ তথ্য জানার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুঠোফোনে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন নূর আলম দীনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিভিল সার্জনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথা জানালেও পরে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এরপর তিনি চাঁদপুর শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার বিষয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন। বিপুলসংখ্যক রোগী দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
হাসপাতালে জনবলসংকটের কারণে সেবা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান। তবে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের টিকা কার্যক্রম, রোগীদের খাবারের মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের স্বাদও গ্রহণ করেন মন্ত্রী।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতেও কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, সিভিল সার্জন নূর আলম দীন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহাবুবুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বের পোস্ট :