বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ঘটনা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সব জঘন্য অপরাধের ঘটনা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সময়সাপেক্ষ ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তদন্ত শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে অপরাধ স্বীকার করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং নিহত কিশোরের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের সময়োপযোগী তৎপরতার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে চার্জশিট দেওয়া হবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ মামলার বিচারও যাতে স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিচার বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে মাদক, জুয়া ও পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে যুবসমাজ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বিকশিত হতে পারে। একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তথাকথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব অপতৎপরতা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদেরও ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব অপতৎপরতায় জনগণ ও সরকার মোটেও শঙ্কিত নয় এবং দেশবাসী ইতোমধ্যে তাদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
রাজনীতিতে জনমতের মাধ্যমেই সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতাকে এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবার তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমন ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যে তারা ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।