বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যারা কাজ করছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল কথা বলবে, পার্লামেন্টে কথা বলবে, বাইরেও কথা বলবে এবং কর্মসূচি দেবে। কিন্তু অলীক কোনো বিষয় বা অহেতুক কোনো বিষয়, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই, তা নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না।’
তিনি আরও বলেন, ভিন্নমত থাকবে, নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনা থাকবে। তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে। সেটি অপপ্রচার কিংবা কলঙ্ক লেপন হওয়া উচিত নয়।
দেশে গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া সরকার এ সংকটের জন্য দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়।
তিনি বলেন, ‘এটার জন্য তারেক রহমানের সরকার দায়ী নন। এটি বৈশ্বিক সংকট। ‘
সরকারের সামাজিক কার্যক্রম ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বা সোশ্যাল নেট যেভাবে তৈরি করা হচ্ছে, এতে বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায়, গরিব ও দরিদ্র মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন।
বয়স্ক ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা আগে ৬১ লাখ ছিল। বর্তমান সরকার আরও এক লাখ বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এগুলো সবই সামাজিক সুরক্ষার একেকটি প্রতিশ্রুতি প্রতিপালন করা এবং সেই কাজগুলো সরকার একটির পর একটি করছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান গণমুখী কর্মসূচি পালন করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেননি, খাদ্য রপ্তানির পদক্ষেপও নিয়েছিলেন।
বর্তমান সরকারের নানা কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো থেকে বাধা দেওয়ার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে কিনা, সেটিও দেখতে হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যে কর্মকাণ্ড করেছে, তাতে রক্তপিপাসু আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে তারা দিনে-দুপুরে হত্যা করেছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি কাজী জাফরের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সভায় সভাপতিত্ব করেন।
আরও বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।
পূর্বের পোস্ট :